বিজ্ঞাপন

বাচ্চাদের খুশকি দূর করার উপায় ।। Ways to get rid of dandruff in children

বাচ্চাদের খুশকি দূর করার উপায় জেনে নিন। বাচ্চাদের মাথার খুশকি এক ধরনের সমস্যা যা মাথার ত্বকে চুলকানি  এবং জ্বালা সৃষ্টি করে। বাচ্চারা সাধারণত বাইরে খেলাদুলা করে এবং এর ফলে তারা ধুলাবালির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, ফলে খুশকির সৃষ্টি হয়।

খুশকি কি?

মাথার চুলের মধ্যে  ছোট ছোট  মৃত টুকরো পাওয়া যায়, যার কারনে সাধারণত সাদা আঁশ বা  চুলকানিও সৃষ্টি করে, তাকে খুশকি বলা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে, সেবোরহিক ডার্মাটাইটিসের মতো গুরুতর পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, যে ক্ষেত্রে মাথার ত্বকের অংশে প্রদাহ ঘটে।

বাচ্চাদের খুশকি হওয়ার কারণগুলি কী কী হতে পারে?

বাচ্চাদের খুশকির সমস্যার বিভিন্ন কারণ রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে-

1. ভাল ভাবে শ্যাম্পু না করা

যখন আমরা  বাচ্চাদের চুল শ্যাম্পু করি তখন মৃত ত্বকের কোষগুলি থেকে যায় যা ধুয়ে যাওয়া উচিত ছিল, য়া ভুলভাবে  ধোয়ার কারণে থেকে যায়। এর ফলে তাদের মাথার ত্বকে মৃত ত্বক জমা হয় এবং এতে খুশকি হয়।

2. পুষ্টির অভাব

বাচ্চাদের খুশকি হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল পুষ্টির অভাব। বাচ্চারা পুরোপুরি পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বা জাঙ্ক ফুড বেশি খেতে পছন্দ করে যা মাথার ত্বকে চুলকানি বা খুশকি সৃষ্টি করে।

3. চুলের পণ্যগুলির প্রতি সংবেদনশীলতা

বাচ্চার চুলে শ্যাম্পু করার জন্য আপনি যে চুলের পণ্যটি ব্যবহার করেন সেটি আপনার বাচ্চার উপযুক্ত হয় না, য়ার ফলে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। পণ্যটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন, তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরেই এটি করুন।

4. সেবোরহিকডার্মাটাইটিস

এই রোগটি র নাম হল একজিমা যার ফলে ত্বকের প্রদাহ হয়। এই ধরণের ত্বকের ব্যাধি সহজে যেতে চাই না। তবে খুশকি হ’ল বাচ্চাদের এই অবস্থার একটি হালকা রূপ যার গুরুতর প্রভাব কম।

5. ম্যালাসেজিয়া

এটি  ঈস্ট জাতীয় ছত্রাক যা দ্রুত বাড়ার সাথে সাথে কোষের প্রাকৃতিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায় এটি থেকে খুশকি এবং মাথার ত্বকের চুলকানি সৃষ্টি হয়ে থাকে । বাচ্চাদের কিছু অসুস্থতা বা হরমোনের পরিবর্তন সাধারণত এ জাতীয় ছত্রাকের উত্থানের কারণ হয়।

শিশুদের কি কি খুশকির লক্ষণ ও উপসর্গ রয়েছে

শিশুদের বিভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ অবশ্যই লক্ষ্য করা উচিত যাতে খুশকির চিকিৎসার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় । এর মধ্যে রয়েছে:

শিশুদের মাথার ত্বকে বা পোশাকে দৃশ্যমান শুকনো সাদা আঁশ

মাথার তালুতে তৈলাক্ত আঁশের উপস্থিতি দেখা দেয়

মাথার ত্বকের ক্রমাগত চুলকানি হয়

চুলকানি বা অত্যধিক খুশকির কারণে মাথার ত্বকে লাল লাল ছোপ হয়


কিভাবে শিশুদের জ্বর কমাতে হয়? ।। শিশুদের জ্বরের ঘরোয়া প্রতিকার ।


খুশকি শিশুদের মাথার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে কি না?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাই  যে হালকা খুশকিই আপনার শিশুকে জ্বালাতন করে এবং এটি মাথার ত্বকে খুব বেশি প্রভাবিত করে না। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে যেমন সেবোরহিক একজিমা, ডার্মাটাইটিস,  ম্যালাসেজিয়া বা সোরিয়াসিস, মাথার ত্বকের অঞ্চলটি ফুলে যায় এবং লাল লাল হয়ে যায়। এই  ক্ষেত্রে  আপনার বাচ্চাদের কার্যকর নিরাময়ের জন্য ত্বকের যত্ন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা জরুরি হয়ে পড়ে।

বাচ্চাদের খুশকি দূর করার উপায় সমূহ:

বাচ্চাদের জন্য পরীক্ষিত এবং ব্যবহৃত খুশকির চিকিৎসাগুলির মধ্যে রয়েছে-

বাচ্চাদের খুশকি দূর করার উপায়,খুশকি কি,শিশুদের খুশকি হওয়ার কারণগুলি কী কী হতে পারে, শিশুদের খুশকির লক্ষণ ও উপসর্গ, খুশকি শিশুদের মাথার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে কি না, শিশুদের খুশকির চিকিৎসা, বাচ্চাদের খুশকির জন্য ঘরোয়া প্রতিকার, কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতেহবে;

1. একটি ওষুধ যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

ওষুধ যুক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহার করার ফলে বাচ্চাদের খুশকির পরিমাণ অনেকাংশে নিরাময় করতে পারে।যেন তেন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। বরং ত্বকের যত্ন বিশেষজ্ঞের সাথে ভালকরে পরামর্শ করুন যিনি আপনার বাচ্চার অবস্থার উপর ভিত্তিকরে কার্যকর ওষুধযুক্ত শ্যাম্পুর পরামর্শ দেবেন।

2. হাইড্রেটেডথাকুন

আপনার শিশুদেরকে যতটা বেশি সম্ভব জল পান করতে বলবেন। যদি তারা নিজে থেকে পান না করে তবে আপনি তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণে জল দিবেন যাতে তারা নিয়মিত জল বা  রস পান করে। এটা তাদের হাইড্রেটেড রাখলে অবশ্যই খুশকি হ্রাস করতে পারে।

3. শ্যাম্পু করার আগে ব্রাশ করতে হয়

শিশুদের চুল ওষধযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার আগে চুলগুলি ঠিক মতো ব্রাশ করে নিবেন । যার ফলে  কিছু পরিমাণ আঁশগুলি নির্মূল করতে সহায়তা করবে, যার কারনে শ্যাম্পু করার পরে মাথার ত্ক ভালভাবে পরিস্কার হতে সহায়তা করবে।

4. তোয়ালে এবং চিরুনি আলাদা করুন

 শিশুদের বা বাচ্চাদের জন্য পৃথক চিরুনি এবং তোয়ালে ব্যবহার করুন, কারণ সবাই একই চিরুনি  এবং তোয়ালে  ব্যবহার করলে  জীবাণুগুলি খুশকির সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

5. সঠিকপুষ্টি

খুশকির সমস্যাগুলি মোকাবিলা করতে বাচ্চাদের সবুজ  পাতাওয়ালা শাকসবজি খাওয়া আবশ্যক।শর্করা, প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলি আর্দ্র ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের দিকে পরিচালিত করে যার ফলস্বরূপ খুশকি হ্রাস হয় বা সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে দেয়। তাই সঠিক পুষ্টিকর খাবার শিশুদের দেয়া উচিত।

6. মাথাই তেল লাগানো

আপনার শিশুদের মাথার ত্বকে নিয়মিত বা এক দিন অন্তর তেল লাগানো উচিত কারণ মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখতেএটি সহায়তা করবে এবং  খুশকিমুক্ত ও করবে।

7. চুলের জন্য ক্ষতিকর পণ্য ব্যবহার করবেন না

শিশুরা ত্বকের সমস্যায় খুব বেশি আক্রান্ত হতেপারে তাই সেই কারণে চুলে ক্ষতিকর পণ্য যেমন জেল বা ক্রিম বাচ্চাদের চুলের উপর প্রয়োগ করা উচিত নয় কনেনা এটি চুল বা খুশকি সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

8. বারবারশ্যাম্পু

এক দিন অন্তর অন্তর আপনার শিশুদের চুলে শ্যাম্পু করুন। বার বার শ্যাম্পু করলে ধূলো বালি দূরে রাখতে সহায়তা করে যা বাচ্চাদের খুশকির মূল কারণ । তবে কেউই প্রতিদিন শ্যাম্পু করার পরামর্শ দেয় না।

বাচ্চাদের খুশকির জন্য ঘরোয়া প্রতিকার

খুশকি নিরাময়ের ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে

1. গাছেরতেল

গাছের তেলে অনেক ধরনের (অ্যান্টি-ফাঙ্গাল) বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাথার শুকনো ত্বককে ঠান্ডা রাখে। জলপাইয়ের তেলবা বাদামের তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা গাছের তেল মেশান এবং সেটা ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং খুব ভালবাবে মাথার ত্বকে লাগান। এটি আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা  রেখে দিন এবং তারপরে আপনার মাথা ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

2. বেকিংসোডা 

বেকিং সোডা খুব ভাল স্ক্রাব হিসাবে কাজ করে যা মাথার ত্বককে আঁশমুক্ত করতে অনেকটা সহায়তা করে।যা কিনা আপনার নিয়মিত শ্যাম্পুতে আপনাকে কেবলমাএ কিছুটা বেকিং সোডা যুক্ত করতে হবে এবং এটি মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োগ করে তাড়াতড়ি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

3. দই

দই আপনার বা বাচ্চাদের মাথার ত্বককে আর্দ্র ও নরম রাখতে সহায়তা করে। মাথার ত্বকে দই লাগানো ভাল। মাথার ত্বকে দই লাগান ,আধ ঘন্টা থেকে একঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

4. পাতিলেবুর রস

লেবুর রসে ভিটামিন সি রয়েছে যা খুশকির মতো মাথার ত্বকের সমস্যাগুলি সমাধানে খুবই সহায়তা করে ।মাথার ত্বকে লেবুর রস লাগান, এবং আধ ঘন্টা থেকে একঘন্টা  রেখে ধুয়ে ফেলুন।

5. মেথিরবীজ

মেথির বীজ এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ এই বীজগুলিতে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং মাথার ত্বককে শীতলতা দেওয়ার গুণ রয়েছে। মেথি বীজ এবং দইয়ের সাথে একটি পেস্ট তৈরি করে শ্যাম্পু করার আগে মাথার ত্বকে লাগান।

6. নিম

আপনি চাইলে নিম ব্যবহার করতে পারেন, নিম খুশকি নিরাময়েও কার্যকর। নিমের রসের সাথে নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে মালিশ করুন।

7. অ্যালোভেরাররস

অ্যালোভেরা হ’ল একটি শীতলকারী এজেন্ট যার মধ্যে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অ্যালোভেরা জেলটি সরাসরি গাছ থেকে বের করুন এবং শ্যাম্পু করার আগে এটি মাথার ত্বকে লাগান।

8. ডিম

ডিম চুল ও মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। চুলে শ্যাম্পু করার আগে  একটি ডিমকে ভেঙে নিন এবং এটি মাথার ত্বকে চুলের গুরাই লাগান।মনে রাখবেন ডিমের সাদা অংশ টুকু সুধু লাগাবেন।

9. নারকেলতেল

নারকেলতেলে অনেক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে । এটি একটি খুরভাল স্কাল্প ময়েশ্চারাইজার হিসাবেও কাজ করে। সরাসরি নারকেল তেল প্রয়োগ করুন, শ্যাম্পু করার আগে এটি কিছুক্ষণ রাখুন পরে শ্যাম্পু করোন ।

10. আপেলসাইডার

আপেল সাইডার বুজে যাওয়া চুলের ছিদ্র পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। আপেল সাইডার সমান পরিমাণ পানির সাথে মিশ্রিত করুন এবং এটি মাথার ত্বকে লাগান পরে শ্যাম্পু করেন ।

11. সাদাভিনিগার

সাদাভিনিগার বা শ্বেত ভিনিগার হ’ল খুশকি সমস্যার অন্যতম সেরা সমাধান। এটি ছত্রাকের বৃদ্ধি এড়ায় চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। সাদা ভিনিগার পানির সাথে মিশিয়ে আপনার বাচ্চাদের চুল ধুয়ে দিন।

12. রসুন

রসুন আসলেই আনেক উপকার একটি জিনিস এর অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যগুলিতে জোর দিতেই হবে। রসুনের কোয়াগুলিকে পিষে রস বের করুন এবং পানির সাথে মিশ্রিত করুন  শ্যাম্পু করার আগে এটি আপনার বাচ্চাদের মাথার ত্বকে লাগান।

13. মাখন

মাখন পর্যাপ্ত পরিমাণ  নিয়ে চুলে ঘষুন। এটা মাথায় এক ঘন্টা রাখুন। তারপরে শুধু  ধুয়ে ফেলুন। এটি খুশকি দ্রবীভূত করে এবং বেশিরভাগ আঁশভাব দূর করে।


বাচ্চাদের কৃমি কেন হয়? – কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ


কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতেহবে?

বাচ্চাদের বা শিশুদের মাথার ত্বকে অতিরিক্ত খুশকির এবং  চুলকানি কারণে রক্তের ডেলা বা লালচে ভাব  দেখা গেলে, ডাক্তারের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

খুশকির সমস্যা সম্পর্কিত তথ্য ও চিকিৎসাগুলিতে দৃষ্টিপাত করে আপনি নিশ্চয়ই এখন খুশকি মারার জন্য যা যা লাগে তা নিয়ে প্রস্তুত!