Header Ads

বাচ্চাদের জন্য সেরা ৭টি গল্পগুচ্ছ ।। বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর গল্প ।

বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর গল্প অনেক রয়েছে। বাচ্চারা গল্প শুনতে অনেক পছন্দ করে ।শিশুরা তাদের মা অথবা বাবার মুখ থেকে ঘুমানোর  আগে শুনতে বেশি পছন্দ করে।ঘুমানোর  সময় বাচ্চাদের সাথে গল্প করলে তাদের সাথে একটি ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে তাদের পড়ার প্রতি একটা আগ্রহ  গড়ে তুলতে তাদের উৎসাহিত করার ।এটি খুব ভাল কাজ করে।শিশুদের সামনে বই পড়লে তারা তাদের বই পড়াকে আসতে আসতে ভালবাসতে শেখে এবং পরবর্তীতে একজন ভাল পাঠক হয়ে উঠতে সহায়তা করে।এছাড়াও এই অভ্যাসগুলি  তাদের স্মৃতিশক্তিকে তীক্ষ্ণ ও প্রখুর করে তোলে, এছারাও তাদের ভাষার বিকাশ ঘটাতে শেখাই এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে আরও শক্তিশালী  করে তোলে।এখানে বচ্চাদের  ঘুমানোর সময় উপযুক্ত  কয়েকটি আকর্ষণীয় গল্পগুচ্ছ দেওয়া হল।

বাচ্চাদের  জন্য সেরা ৭টি গল্পগুচ্ছ ।। বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর গল্প ।

একজন মায়ের জন্য বাচ্চাদের সময় মত ঘুম পাড়ানোটা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।আর ঠিক এই সময়টিতে কয়েকটি সুন্দর গল্প বাচ্চাদের ঘুম পাড়াতে আপনাকে অনেকটা সাহায্যে করতে পারে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা  ভাল গল্পগুলি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে। এটা একজন মায়ের জন্য অনেক উপকারে আসে ।তাই এরকমই কয়েকটি গল্প দেওয়া হল যেগুলি আপনি তাদের সামনে বলতে পারেন।

বাচ্চাদের জন্য সেরা ৭টি গল্প,বাচ্চাদের জন্য সেরা ৭টি গল্পগুচ্ছ,বাচ্চাদের ঘুমের সময়ের জন্য সেরা কিছু গল্পগুচ্ছ,বাচ্চাদের ঘুমের সময়ের জন্য সেরা কয়েকটি গল্পগুচ্ছ,শিশুদের গল্প বলার সময়টিকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য কিছু পরামর্শ,চাঁদের বুড়ির গল্প,সিংহ ও ইঁদুরের গল্প,শিয়াল-কুমিরের গল্প,নেকড়ে নেকড়ে বলে চেঁচিয়ে ওঠা রাখাল বালকটির গল্প,পশু রূপী মানব এবং সুন্দরী,ক্ষুধার্ত ইঁদুর,আলাদিন এবং তার আশ্চর্য প্রদীপ.

1.চাঁদের বুড়ির গল্প 

শিশুদের জন্য  চাঁদের বুড়ির গল্প এটি একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘুম পাড়ানির গল্প।গল্পটি সাধারনত একটি চাঁদ ও একড়ি কুজো বুড়ি নিয়ে ।বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর গল্পের মধ্যে প্রথমেই  হলো  চাঁদের বুড়ির গল্প । আপনি  আপনার বাচ্চাদের এই গল্পটা শুনিয়ে খুব সহজেই ঘুম পারাতে পারবেন । অনেক আগে থেকেই এই গল্পটা শুনে আসেছি  আমাদের মা-দাদুদের মুখে । এই গল্পটা বাচ্চাদের সাথে বললে বাচ্চার অনেক আনন্দের সাথে তা উপভোগ করে। এবং তারা শুনে ও মজা পাই।

ছোট্ট বাচ্চাদের এই গল্পের ২ লাইন কবিতা শুনিয়ে ও ঘুম পারাতে পারবেন

যেমন: 

আই আই চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা,

চাঁদের কপালে চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা…………….. ।

যা আপনি একজন শিশুর জন্য মন মতো বলতে পারেন বা তাকে শুনাতে পারেন । বাচ্চাদের ঘুমানোর জন্য এইটা অনেক কার্যকর একটা পন্থা । 

2. সিংহ ও ইঁদুরের গল্প   

শিশুদের জন্য  সিংহ ও ইঁদুরের গল্প এটি একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘুম পাড়ানির গল্প।একদা একটি সিংহ তার গুহায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ করে একটি ছোট ইঁদুর ছোটাছুটি করতে গিয়ে সিংহের নাকের এক ছিদ্রে ঢুকে পড়ল। ফলে সিংহের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে ইঁদুরটিকে থাবা দিয়ে ধরে ফেললো এবং মেরে ফেলবে বলে ঠিক করল। ইঁদুরটি ভয় পেল এবং অত্যন্ত বিনয়ের সুরে বলল, দয়া করে আমাকে মারবেন না।হয়তো এক সময় আমিও আপনার উপকারে আসতে পারি। একথা শুনে সিংহটি হেসে বলল,তুই আমার কি উপকার করবি? যাক সিংহটি দয়া হল এবং তাকে ছেড়ে দিল।

এর কিছুদিন পরের ঘটনা,সিংহটি একটি শিকাড়ির শক্ত ফাঁদে আটকে গেল। ফাঁদে পড়ে সিংহটি ভীষণ গর্জন করতে লাগল।সিংহটির গর্জন ইঁদুরটি শুনতে পেল ইঁদুরটি দৌড়ে সেখানে গেল। সিংহের বিপদ দেখে সে তার কানের কাছে গিয়ে তাকে গর্জন করতে মানা করল। কারণ যে শিকারী ফাঁদ পেতে রেখেছে সে গর্জন শুনে ছুটে আসতে পারে। ইঁদুরটি এবার তার কাজ শুরু করল। সে তার ছোট্ট ছোট্ট দাঁত দিয়ে ফাঁদের দড়ি কাটতে শুরু করল। অবশেষে ইঁদুরটি সিংহকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করল। মুক্তি পেয়ে সিংহটি ইঁদুরকে ধন্যবাদ দিল এবং তারা বন্দু হয়ে গেল।

বাচ্চারা এই সব গল্প শুনতে অনেক মজা পাই কিন্তু তাও শুনতে চাই এতে ঘুম পাড়ানো তাদের সহজ হয়ে উঠে।

3. শিয়াল-কুমিরের গল্প

শিয়াল-কুমিরের গল্পটি হল শিশুদের জন্য অপর আরেকটি চমৎকার ঘুম পাড়ানির গল্প।একদা একটি নদীর ধারে একটা ছোট গ্রাম ছিল। গ্রামের জঙ্গলে বসবাস করত একটি শিয়াল। পাশের একটি নদীতে একটি কুমির ছিল । জঙ্গলের শিয়াল ও নদীর কুমিরের সঙ্গে বন্দুত্ব গড়ে ওঠে খুব তারাতারি। কুমির ও শিয়াল মিলে নদীর পাশে একটা উর্বর জমির সন্ধান পেল এবং নিজেরা পরামর্শ করে ঠিক করল যে তারা সেটা চাষাবাদ করবে।এবং কাজ শুরু করলো। তারা জমিটি চাষাবাদের যোগ্য করে প্রথমে ধান গাছ রোপণ করল। কিছু দিন পর যখন ধানের ফলন হলো তখন ভাগাভাগির প্রশ্নে শিয়াল কুমিরকে বলল, বন্ধু এক কাজ করি, তাহলো আমি ধান গাছের উপরের অংশ নেই আর তুমি গোড়ার অংশ নাও। সে আরও এটাও বলল যে, উপরের অংশে তেমন কিছুই নেই তার চেয়ে গোড়ার অংশই ভালো। কুমির শিয়ালের কথায় রাজি হলো। আর কুমির নিজে ধানগাছের নিচের অংশ মানে খড়কুটার অংশীদার হলো। চালাক শিয়ালটি ধান গাছের উপরের অংশ এবং আসল ধানের মালিক হলো। ফসল ভাগাভাগির করার পর কুমির বিষয়টি বুঝতে পারল কিন্তু তখন কিছুই করার ছিল না। এর পর ধানের আবাদ শেষে তারা দুজন মিলে আবার আগের মতই পরিশ্রম করে আলুর আবাদ শুরু করল। এবার আলুর ফলনও হলো ভালোই। শিয়াল এবার কুমিরকে বলল, বন্ধু গতবার তোমাকে নিচের অংশ দিয়ে আমি উপরের অংশ নেওয়াতে তুমি মন খারাপ করেছিলে। এবার তুমি উপরের অংশ নাও আর আমি নিচের অংশ নেই কেমন। বোকা কুমির আবারও চতুর শিয়ালের কথায় রাজি হলো। কুমিরের কপালে আবার জুটল দুর্ভোগ। এবার ও একইভাবে আলুর বদলে জুটল আলুর গাছসমেত লতাপাতা। মাটিখুঁড়ে ফসলের মূল অংশ আলু নিয়ে নিল শিয়াল। শিয়াল এভাবে সততার আশ্রয় নিয়ে প্রতিবারই কুমিরকে ঠকাতে লাগল। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী ছিল তারা শিয়ালের কর্মকাণ্ডে রাগে-ক্ষোভে প্রতিশোধ নেওয়ার অপেক্ষা করছিল। পরে এক দিন যখন শিয়ালকে বাগে পেল তখন সবাই মিলে প্রতারক শিয়ালকে তাড়া করে চিরতরে এলাকা ছাড়া করল।বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর গল্প অনেক রয়েছে।এটা তার মধ্যে একটি।

4. নেকড়ে নেকড়ে বলে চেঁচিয়ে ওঠা রাখাল বালকটির গল্প

জীবনে সত্যবাদী হয়ে ওঠার গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে এই গল্পে।এটি এমন এক জন রাখাল বালকের গল্প যে তার গ্রামের কাছাকাছিই এক পালভেড়াকে প্রতিদিন দেখাশুনা করত, ভেড়াদেরকে মাঠে চরাতে নিয়ে যেত ঘাস খাওয়াত।সেই অঞ্চলটিতে একটি নেকড়ের উপদ্রব ছিল, সে মাঝে মাঝেই ভেড়ার পালের উপর আক্রমণ করত এবং সেখান থেকে দু–একটি করে ভেড়া শিকার করে নিয়ে যেত।গ্রামবাসীরা এই ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে অবগত ছিল এবং সর্বদাই তারা প্রস্তুত থাকত নেকড়েটির কবলে বিপদে পড়া থেকে যে কাউকে সাহায্য করার জন্য।কিন্তু রাখাল বালকটি সেই গ্রামবাসীদের সাহায্য করার মনোবৃত্তিটিকে উপেক্ষা করে এবং এমনকি সেটিকে একটি উপহাসের বিষয় করে তোলে।সে নেকড়ে নেকড়ে বলে সাহায্য চেয়ে তিনবার গ্রামবাসীদের বাইরে বের করে এনেছিল। গ্রামবাসীরা তৎক্ষণাৎ তাকে সাহায্য করার জন্য সেখানে ছুটে আসতো এবং এসে কেবল রাখাল বালকটিকে তাদের বিদ্রূপ করে অট্টহাসিতে হাসতে দেখে।সে যখন নেকড়ের নাম করে গ্রামবাসীদের ডেকে এনে বোকা বানিয়ে হাসতে থাকে গ্রামবাসীরা তখন স্বভাবতই মর্মাহত হয়।হঠাত একদিন সত্যি সত্যিই একটি নেকড়ে আসে এবং রাখল বালকটির ভেড়ার পালে আক্রমণ চালাই  হত্যা করে তার ভেড়া খেতে থাকে। এটা দেখে বেশ কিছু ভেড়া আবার সেখান থেকে এলোমেলো ভাবে যে যেখানে পারে প্রাণ ভয়ে ছুটে পালায়।এরকম পরিস্থিতিতে রাখাল বালকটি এবার সত্যি সত্যিই  নেকড়ে  নেকড়ে  বলে  চিৎকার করতে থাকে গ্রামবাসীদের প্রকৃত সাহায্যের জন্য। কিন্তু গ্রামবাসীরা এইবার তা শুনে কিন্ত এটা ভাবে যে রাখাল বালকটি নিশ্চই এবারও এই দুষ্টু বুদ্ধি পাকিয়েছে তাদের পুনরায় আরও একবার বুকা বানাবার জন্য, আর তাই গ্রামবাসীর কোনও একজন লোক তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গেল না।আর এর পরিণতি হিসেবে নেকড়েটি রাখাল বালকটির সমগ্র ভেড়ার পালটিকে তছনছ করে দিল।এই গল্পের নীতি শিক্ষাটি হল যে একজন মিথ্যাবাদীকে কেউই বিশ্বাস করে না এমনকি যখন সে সত্যি বলে তখনও।

5. পশু রূপী মানব এবং সুন্দরী 

একটি  রূপকথার গল্প ।একদা এক বণিক ঝড়ের কবলে পড়ে হারিয়ে যান এবং অবশেষে খুঁজে পাওয়া এক পুরানো  প্রাসাদে বা কেল্লায় আশ্রয় নেন।এর পর ঝড় থেমে যেতে সেই কেল্লাটি ত্যাগ করার সময় তিনি সেই প্রাসাদের বাগান থেকে একটি গোলাপ তোলেন তার কন্যা বেলাকে উপহার দেবে বলে।সেই দুর্গে থাকত এক  পশু রূপী মানব যে গোলাপ চুরির দায়ে বণিকটিকে কারাবন্দী করতে চায়।বণিকটি তখন তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তিনি এটাও বলেন গোলাপটি তুলেছিলেন শুধুমাত্র তার কন্যা বেলাকে উপহার দেওয়ার জন্য।তখন পশুরূপী মানবটি বণিককে মুক্তি দেয় এই শর্তে যে বণিকের  সাজাটি তার কন্যাকে গ্রহণ করতে হবে এবং তার সাথে সেই পোড়ো কেল্লায় বাস করতে হবে। বণিকটি এরপর তার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং তার কন্যাকে সবকিছুই খুলে বলে।বেলা তখন তার বাবার জায়গায় নিজে সেই পোড়ো কেল্লায় মধ্যে সেই পশু রূপী মানবটির সাথে থাকতে রাজী হয়।পশু রূপী মানবটি সুন্দরী বেলার প্রেমে পড়ে যায়, আর বেলা ও বুঝতে পারে যে সেই পশুরূপী মানবটি চরিত্রহীন নয় এবং বেশ ভাল প্রকৃতির।একদিন বেলা তার বাবাকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি চায়।বেলা কেল্লা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর পশু রূপী মানবটির হৃদয় হারা হয়ে যায় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।এরপর বেলা সেই কেল্লায় ফিরে এসে দেখে যে পশু রূপী সেই মানবটি প্রায় মৃত্যু শয্যায় শায়িত।তা দেখে বেলা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে এবং বলে যে সে তাকে ভালোবাসে।আর এই কথা বলা মাত্রেই হঠাৎ করেই সেই মুহূর্তেই সেই পশু রূপী মানবটি এক সুন্দর সুপুরুষ রাজপুত্রে পরিবর্তিত হয়ে ওঠে।সে এক ডাইনির অভিশাপে অভিশপ্ত হয়ে পশু রূপী মানব হয়ে ছিল ঠিক ততদিনই যতদিন না কোনও মহিলা তার এই কুদর্শন রূপ থাকা সত্ত্বেও তাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে।যখন বেলা তাকে জানায় যে সে তাকে সত্যিই খুব ভালোবাসে  তখনই ডাইনির অভিশাপটি ওঠে যায়।রাজপুত্র এবং বেলার বিয়ে হয় এবং তারা সুখে দীর্ঘ জীবন একসাথে কাটাতে থাকে।

6.ক্ষুধার্ত ইঁদুর

শিশুদের ঘুম পাড়ানোর গল্পগুলির মধ্যে এটি এমন একটি গল্প, যাতে বলা হয়েছে লোভ মানুষকে কীভাবে কতটা খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাই। একটি ইঁদুর ছিল যে বেশ কিছু দিন ধরে না খেয়ে খেয়ে অনাহারে দিন যাপন করছিল।সে সত্যই অনেক রোগা হয়ে গিয়েছিল।অনেক খোঁজাখুজির পর শেষ মেষ সে এক বাক্স ভুট্টা খুঁজে পেল।সেই বাক্সটির মধ্যে একটি ছোট্ট একটি গর্ত ছিল যেটি বাক্সটির ভিতরে ঢোকার জন্য একদম উপযুক্ত মাপের ছিল।সুতরাং সে কোনওমতে গর্তটির মধ্য দিয়ে বাক্সের ভিতরে প্রবেশ করল এবং পেট ভরে ভুট্টা খেল।কিন্তু তার পেট ভরে যাওয়ার পর ও  সে তার খাওয়া বন্ধ করল না।ইঁদুরটি আরও খেতেই থাকল  খেতেই থাকল যখন তার পেট ভরে আই ঢাই অবস্থা অনুভব করল তখনও খেয়েই চলল।এখন ইঁদুরটি সমস্ত খাবার খেয়ে আকারে ফুলে ফেঁপে বড় হয়ে উঠল এবং বাক্সটি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সে কোনও মতেই আর সেই ছোট্ট গর্তটিতে নিজেকে মানিয়ে ঠিক করতে পারল না।সে ভয় পেল এবং চিন্তা করতে থাকল যে কীভাবে সে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে।অন্য আরেকটি ইঁদুর  সেখান দিয়েই যাচ্ছিল সে এই বৃহৎ আকৃতির ইঁদুরটির কথা শুনতে পেল এবং তাকে বলল যে, সে যতদিন না পুনরায় রোগা পাতলা হয় ততদিন তাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে হবে সেই ছোট্ট গর্তটি দিয়ে বেরিয়ে আসার জন্য। 

7.আলাদিন এবং তার আশ্চর্য প্রদীপ

এক দরিদ্র দর্জি পুত্র আলাদিন যার কথা বলা হয়েছে।আলাদিনের বাবার মৃত্যুর পর তার মা সুতা কেটে অর্থ উপার্জন করত।একদিন এক দুষ্টু যাদুকর আলাদিনের কাছে আসল এসে তাকে একটা ছোট্ট কাজ করে দিতে বললো তার বিনিময়ে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব ও দিল। সে লোকটি অগ্রিম হিসেবে আলাদিনকে একটি আংটি ও দিয়ে যায়।কয়েক দিন পর সেই লোকটি আলাদিনকে নিয়ে যায় একটি গুপ্ত গুহার কাছে এবং গুহার ভিতরে প্রবেশ করে সেখান থেকে তার জন্য একটি প্রদীপ  এনে দিতে বলে আলাদিনকে।গুহাটিতে অনেক সোনা এবং নানারকম মূল্যবান ধন সম্পদে একবারে পরিপূর্ণ ছিল।আলাদিন গুহার ভিতরে ভয়ে ভয়ে ঢুকে সেই প্রদীপটিকে খুঁজে পেল এবং সেটিকে নিয়ে সে গুহার  মুখে আসল।তখন যাদুকরটি আলাদিনকে সেই প্রদীপটিকে  দিতে বলল আলাদিন কে না ওঠিয়েই কিন্তু আলাদিন যাদুকরকে আগে তাকে সেই গুহা থেকে উঠিয়ে আনার জন্য সাহায্য চাইলো। কিন্ত দুষ্টু যাদুকরটি তখন রেগে গিয়ে আলাদিনকে সেই গুহার ভিতরেই বন্দী করে রাখার জন্য যাদু মন্ত্রটি পড়ে ফেললো।অসহায় আলাদিন তখন কি করবে বুঝতে পারছিল না ।তখন অন্যমনস্কভাবেই তার হাতের আংটির সাথে  ঘষা লেগে যায় আর সেখান থেকে অদভোধ একটি দৈত্য বেরিয়ে এল এবং আলাদিনকে বললো যে আমি আপনার কোন ইচ্ছে পূরণ করতে পারে জাহাপনা।আলাদিন তখন দৈত্যকে সেখান থেকে তাকে মুক্ত করতে বলল।দৈত্যটি তাই করল এরপর আলাদিন সেই প্রদীপটিকে হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলো বাড়ি ফিরে সে তার মাকে সব কথা বলল।পরের দিন তার মা যখন সেই প্রদীপ্টিকে পরিষ্কার করার জন্য প্রদীপটিকে ঘষে ফেলল হঠাৎ সেখান থেকে আবার সেই দৈত্য বেরিয়ে এল।আর সে আলাদিনের মায়ের সকল ইচ্ছেই পূরণ করল। এখন তারা অনেক ধনসম্পদ মালেক হয়ে উঠল এবং তাদের জীবন ভালই কাটাতে থাকল।আলাদিন আবার সেই দেশেরই এক রাজকন্যাকে বিয়ে করে এবং প্রাসাদে বিলাসবহুলভাবে জীবনযাপন শুরু করে।একদিন সেই দুষ্টু যাদুকরটি একজন প্রদীপ বিক্রেতার ছদ্মবেশ ধারণ করে সেই প্রাসাদে আসে এবং পুরোনো প্রদীপের নিয়ে নতুন প্রদীপ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।রাজকন্যা তখন না বুঝেই সেই পুরোনো প্রদীপটিকে ছদ্মবেশী যাদুকরটিকে দিয়ে দেয় ।তখন দুষ্টু যাদুকরটি  প্রদীপের দৈত্যকে ব্যবহার করে আলাদিনের ধন সম্পত্তি  এমনকি রাজকন্যাকেও ছিনিয়ে নেয়।আলাদিন হতাশ হয়ে পড়ে এবং কীভাবে তার সবকিছু পুনরায় আবার ফিরে পাওয়া যায় তার উপায় খুঁজতে থাকে।হঠাৎ তার সেই যাদুর আংটিটির কথা মনে আসে এবং তার প্রাসাদ, প্রদীপ এবং রাজকন্যাকে ফিরিয়ে আনতে সে তখন আংটিকে ব্যবহার করে।এরপর আলাদিন প্রদীপ এবং আংটিকে মুক্ত করে দেয় এবং রাজকন্যার সাথে সারাজীবন সুখে ঘর সংসার করতে থাকে।

শিশুদের গল্প বলার সময়টিকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য কিছু পরামর্শ

এখানে দিয়েছি আপনার জন্য এমন কয়েকটি পরামর্শ যা আপনার সন্তানকে তার ছেলেবেলার গল্প শোনার দিনগুলিকে আরও সুন্দরভাবে কাটাতে সাহায্য করবে।

1. আপনি নিজে বইয়ের যে শব্দগুলো পড়বেন সেই শব্দগুলো  নিচে আপনার শিশুকে অঙ্গুল রাখতে বলুন।এই বিষয়টি তাকে অক্ষর এবং শব্দগুলি চিনতে অনেক সাহায্য করবে এবং তার পড়ার আগ্রহ ঘটাবে।

2.একটা গল্প পড়ানোন পর 4 থেকে 5 মিনিট সেই গল্পটা নিয়ে তার সাথে কথা বলতে । এবং দেখেন যে সে কি বলে।

3.তার কল্পনা শক্তি বাড়ানোর আর ও একটা সুন্দর উপায় হলো আপনি তাকে ওই গল্পের মধ্যে নেই এমন একটি চরিত্র সংযোজন করতে বলুন অথবা কিছুটা বলার পর তাকে বাকিটা  বানিয়ে বলতে বলুন নিজেকেই।এটা আপনাকে আপনার শিশুরা আনন্দ দেবে।

4.একটা বড় গল্প কে কয়েকটি অংশেকে ভেঙে নিতে পারেন এবং প্রতিদিন একটি করে অংশ পাঠ করবেন।এই ব্যাপারগুলি আপনার শিশুকে মনোযোগ ধরে রাখবে এবং তার মধ্যে সাসপেন্স জাগিয়ে তুলবে।

ঘুমানোর সময় গল্প পড়া একটি ছোট শিশুর কাছে দারুণ ব্যাপার যেটি তাদের ভালো আচরণের শিক্ষা দেয়,  ঠিক, ভুল বুঝতে সাহায্য করে এবং অন্যকে সম্মান দিতে শেখায়। মূল্যবোধ গড়ে তোলে এবং নাগরিকবোধ গড়ে তোলে।এছাড়াও তাদের জ্ঞানের বিকাশে এটি সাহায্য করে।এই  গল্প বলার মধ্যে দিয়ে আপনার সন্তানের শব্দ ভান্ডার গড়ে ওঠে এবং ভাষায় তার আয়ত্ত বৃদ্ধি পায়।আপনি তাকে উৎসাহিত করতে পারেন তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ও তার কল্পনাশক্তি বিকাশের জন্য এ ব্যাপারে আপনি একটি বাচ্চাদের অ্যাক্টিভিটি কিট কেনার কথা ভাবতে পারেন।এটি আপনার সন্তানকে তার কল্পনাশক্তি বিকশিত করতে সাহায্য করবে এবং তার লেখার হাত খুলে দেবে সাথে সাথে সে আরো বেশি পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

শিশুদের ঘুমের সময়ের জন্য সেরা কয়েক গল্পগুচ্ছ

শিশুদের গল্প বলার সময়টিকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য কিছু পরামর্শ