Header Ads

বড় বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সহজ এবং কার্যকর উপায় ?

বড় বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সহজ এবং কার্যকর উপায়

বড় বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সহজ এবং কার্যকর উপায় অনেক বাবা–মায়েরা খুজে পাই না।অনেক বাবা–মা তাদের সন্তানের সঠিক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করার সময় প্রথম যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হন, তার মধ্যে একটি হলো তাদের বাচ্চারা দুধ খেতে চায় না । আপনার বাচ্চা দুধ পছন্দ করে না, এই কথাটি মেনে নেওয়া যেমন প্রয়োজনীয় হতে পারে, তেমনি এমন অনেক উপায় রয়েছে যা আপনার সন্তানকে সঠিকভাবে দুধ খেতে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করতে পারে ।

কেন  শিশুরা দুধ খেতে অপছন্দ করে?

অনেক বাবা–মায়ের জন্য এটি খুব চিন্তানিয় যে, কেন তাঁদের সন্তানেরা দুধ অপছন্দ করে,কেন খেতে চাই  না,  যেখানে সে শিশু  বুকের দুধ খেতে খুবই পছন্দ করত । এমনকি শিশু থাকাকালীন আপনার ছোট্টটিকে বুকের দুধ থেকে সরিয়ে ফর্মুলা–ভিত্তিক দুধ বা গরুর দুধের সাথে মানিয়ে নেওয়াতে হয়তো আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে । এর মূল কারন হল, বুকের দুধের সাথে অন্যান্য দুধের তুলনা করতে গিয়ে, শিশুরা স্বাদের বিরাট পরিবর্তন অনুভব করে । বুকের দুধের একটি বিশেষ স্বাদ, রঙ এবং গন্ধ থাকে, যা সব বিকল্প দুধের থেকে আলাদা অথবা বিকল্প দুধে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে ।

বাচ্চাদের কেন দুধ খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ?

বাচ্চাদের দুধ খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ।প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই বলা হয়ে থাকে, প্রত্যেক ডাক্তার এবং প্রতি বাবা–মা বলেন যে, আপনার বাচ্চাটির বৃদ্ধির জন্য দুধ খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যদি না সে ল্যাকটোজ সহ্য করতে না পারে ।

  • ডাক্তাররাই পরামর্শ দেন যে, বেড়ে ওঠার বছরগুলিতে বাচ্চাদের কম ফ্যাটযুক্ত দুধ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত । এটি ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যা শিশুর হাড়ের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
  • যেহেতু শিশুরা তাত্ক্ষণিকভাবে একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারে না, যা তাদের সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে, তাই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য অনেক উপাদানের অভাবের মুখোমুখি হওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে । দুধ এই বিষয়ে সর্বোত্তম বিকল্প, কারণ এটি খুব ভালোভাবে সব উপাদানগুলি সরবরাহ করে ।
  • গরুর দুধ কম পরিমাণে প্রক্রিয়া করা হয় । এটি শুধু নির্বীজ করা হয়, যা এতে উপস্থিত ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া অপসারণ করে এবং এটি প্যাকেজিং, পরিবহন এবং সঞ্চয়ের জন্য নিরাপদ করে । এটি পুষ্টি অপরিবর্তিত রাখে ।
  • দুধ প্রাকৃতিক । তার সব পুষ্টি প্রাকৃতিক । এর মধ্যে কৃত্রিমভাবে কোন কিছু সংশ্লেষিত হয় নয় এবং এর পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য কোনও উপাদান যোগ করার প্রয়োজন নেই । তাই এটি আপনার সন্তানকে দেওয়ার মতো সবচেয়ে নিরাপদ এবং ভালো খাবার ।
  • সকালে দুধ খাওয়া হলো দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা একটি অভ্যাস । এবং এটির ভালো কারণ আছে । দুধে উপস্থিত প্রোটিন শরীরে শক্তির যোগান বাড়ায়, যা সারাদিন ধরে শরীরের কাজ করার জন্য প্রয়োজন । যার জন্য বেশিরভাগ শিশুর জলখাবারে অব্যর্থভাবে দুধ থাকে ।

বড় বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সহজ এবং কার্যকর উপায়?

  • শিশুকে দুধ খেতে কিভাবে উত্সাহ দেওয়া যায় তা জানতে, তাদের প্রাথমিক বাধাগুলি ভাঙার জন্য আপনি কয়েকটি কৌশল ব্যবহার করতে পারেন এবং তাদের দুধের স্বাদের পরিচয় দিতে পারেন ।
  • শুধু যে দুধই খাওয়াতে হবে তা নয় । আপনার সন্তানকে দুধ দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়াতে শুরু করুন এবং সেগুলির জন্য তাদের স্বাদের বিকাশ হতে দিন । দই, পনির এবং ঘি দিয়ে শুরু করলে, তারা পুষ্টি তো পাবেই, সেই সাথে তাদের দুধ খাওয়ার আগ্রহও জাগবে ।
  • সাধারণ দুধের বদলে মিল্কশেক এবং স্মুথি–র মতো খাবার দিন, এতে ওই সুগন্ধের জন্য সে দুধ খেতে আকর্ষিত হবে ।
  • আপনি আপনার সন্তানকে কিছু আকর্ষণীয় স্ট্র বা মগ দিন এবং সেগুলিকে আপনি কোনো সুপারহিরোর শক্তি দিয়ে নাম দিন, এগুলি আপনার সন্তানকে আকর্ষিত করবে এবং তাকে দুধ খেতে উৎসাহিত করবে ।এটি বড় বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সহজ এবং কার্যকর উপাযয়ের মধ্যে একটি ।
  • যদি দেখেন দুধের গন্ধ আপনার শিশুর অপছন্দের কারণ হয়, তাহলে আপনি স্বাদের অল্প বদল করে সেটি কাটাতে পারেন । ভ্যানিলা সুগন্ধ, শুকনো ফলের পাউডার, বা বিভিন্ন মিশ্রণ যোগ করলে, দুধ খাওয়া তার জন্য সহজ হয়ে উঠতে পারে ।
  • এটিকে আপনার ছোট্ট বাচ্চাটির একটি কর্তব্য বানিয়ে দিন । তাকে নিজের জন্য এক গ্লাস দুধ বানাতে বলুন, তবে সে অসতর্কভাবে সেটি করে ফেলতেও পারে ।
  • দুধ খাওয়াতে আপনিও আপনার সন্তানের সাথে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন । কয়েকদিনের জন্য কফি বা চা–এর কাপ সরিয়ে রাখুন এবং আপনার ছোট্টটির সাথে দুধ খাওয়া উপভোগ করুন ।
  • প্রথমেই দুধ ভর্তি একটি গ্লাস দিয়ে দেবেন না । সহজ, অল্প পরিমাণে দিতে শুরু করুন, এবং সেটিকে যেন সম্পূর্ণরূপে শেষ করে সেদিকে দৃষ্টি দিন ।

কীভাবে দুধকে আরো বেশি সুস্বাদু ও মজাদার বানাবেন?

আপনি দুধকে অনেক ভাবেই আরো বেশি সুস্বাদু ও মজাদার বানিয়ে ফেলতে পারেন।অনেক বাচ্চারা বিভিন্ন রকমের স্বাদগন্ধের সাথে মেশানো দুধ খেয়ে দুধ খাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, আবার স্বাভাবিকভাবে দুধ পান করতে শুরু করে । আপনি এই ধরনের কয়েকটি উপায় বেছে নিতে পারেন এবং আপনার সন্তানের জন্য দুধকে আরও সুস্বাদু করতে পারেন ।

কীভাবে দুধকে আরো বেশি সুস্বাদু ও মজাদার বানাবেন?

১) গরম দুধ 

আপনি যদি সবসময় আপনার সন্তানকে গরম দুধ দেন, এটিকে একটু ঘুলিয়ে নিন এবং তার জন্য একটি সুন্দর ঠান্ডা মিল্কশেক বানিয়ে দিন ।

২) সঙ্গে বিস্কুট দিন

এক গ্লাস দুধের সাথে আপনার বাচ্চার প্রিয় বিস্কুটগুলি রাখুন এবং তাকে সেগুলি ডুবিয়ে ডুবিয়ে খেতে দিন ।

৩) দুধের সাথে ফল

আপনার বাচ্চা যদি কোন ফল পছন্দ করে, সেগুলিকে পিষে দুধের সাথে মেশান এবং একটি আকর্ষণীয় জুছ তৈরি করুন, এটি সে মজা করে খাবে । আম এবং কলা দুধের সাথে মিশাতে পারেন।

৪) মিষ্টি দুধ

দুধের সাথে একটু মিষ্টি দিয়ে মিষ্টি দুধ তৈরি করে দিতে পারেন । দুধ ও চিনি দিয়ে এগুলি মিশিয়ে তাকে দিলে, সে তার প্রয়োজনীয় পরিমাণ দুধটা পাবে।

৫) দুধের ললিপপ

মিল্কশেক বানান এবং বিভিন্ন ছাঁচে তাদের ঠান্ডা করে জমিয়ে নিন । সন্ধ্যার স্ন্যাকে এক গ্লাস দুধের বদলে একটি ললিপপ দিয়ে আপনার বাচ্চাকে অবাক করে দিন ।

শিশুকে দুধ খাওয়ানোর কোন উপায় খুঁজে পাওয়া বেশিরভাগ বাবা–মায়ের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে । কয়েকটি কৌশল বেছে নিলে এবং এটিকে একটি কাজ হিসাবে গড়ে তুললে, যেখানে আপনিও তাদের সাথে যোগদান করবেন, আপনি তাকে দুধ উপভোগ করতে সাহায্য করতে পারেন ।