Header Ads

অচিন গাছ গাজীপুরে যার নাম দেওয়া হল সাদা পাকুর গাছ–অলৌকিক ঘটনা

অচিন গাছ গাজীপুরে যার নাম দেওয়া হল সাদা পাকুর গাছ–অলৌকিক ঘটনা

অচিন গাছ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের অবস্থিত একটি প্রাচীন বৃক্ষ প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর ওই গাছটি দারিয়ে আছে। গ্রামের বাসিন্দারা গাছটি নাম না জানার করণে, বৃক্ষটির নাম দেয় ‘না-চিন গাছ’ বা ‘অচিন-গাছ’ Ochin Gas। আর তখন থেকেই এটি ‘না-চিন গাছ’ বা ‘অচিন গাছ’ নামেই পরিচিত ছিল। চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ গাছের পাতা ঝরে গিয়ে নতুন পাতা গজায়। পাতা মসৃণ ও ডিম্বাকৃতি ফলার মতো। গাছটিতে ছোট ছোট গোলাকার সাদা রঙের ফল ধরে। এই ফল পাখির প্রিয় খাবার। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে গাছটিতে ফল ধরে।
এই গাছটির নিচে সব সময় ছায়া থাকে যার কারণে গ্রামের মানুষ একটু প্রশান্তির খোঁজে ওই গাছের নিচে ছুটে আসে এমনকি বেশিরভাগ সময় গাছটির ছায়াতলে কাটিয়ে দেয়। অনেক মানুষ অনেক দুর দুরান্ত থেকে দেখতে গাছটির নিচে ভিড় জমাই। দর্শনার্থীর কথা চিন্তা করে গাছটি আর কাটেননি গাছটির মালিম মোঃ আলেপ মিয়া। তবে এটাকে ঘিরে রয়েছে নানা ধরনের লৌকিক-অলৌকিক গল্প কাহিনী।অচিন গাছ গাজীপুরে যার নাম দেওয়া হল সাদা পাকুর

গাছটির সর্ম্পকে যা যা আছে

  1. অচিন গাছ/সাদা পাকুর গাছটির নামকরণ (Ochin Gas)
  2. সাদা পাকুর গাছটির বয়স (sadha pakur gas)
  3. তিত বট/সাদা পাকুর গাছের ঠিকানা (Tit Bot Gas)
  4. সাদা পাকুর গাছ গাজীপুরে যার নাম ছিল অচিন গাছ ভিডিও দেখুন
  5. সাদা পাকুর গাছটিকে নিয়ে গ্রামের বাসিন্দারা যা বলেন
    1. আরিফুল ইসলাম আরিফ (মেম্বার)
    2. শাহজাহান মিয়া (শিক্ষক)
    3. আব্দুল খালেক (শিক্ষক)
    4. জাফরিন সুলতানা(শিক্ষিকা)
  6. অচিন গাছ বা সাদা পাকুর গাছের অলৌকিক ঘটনা
    1. প্রথম অলৌকিক ঘটনা
    2. দ্বিতীয় অলৌকিক ঘটনা

অচিন গাছ/সাদা পাকুর গাছটির নামকরণ (Ochin Gas)

অনেক প্রজন্ম থেকে দেখে আসতেছে এই বৃক্ষটা। কিন্তু কেউ বলতে পারেনা ,কি এর নাম? এটা কোন জাতীয় বৃক্ষ? সবাই শুধু এখানে আসে,অবাক হয়ে দেখে,ছায়া তলে বসে,ছবি তোলে এবং চলে যায় কিন্তু এর সঠিক নাম আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেনি। তাই সবাই ‘না-চিন গাছ’ বা ‘অচিন-গাছ’ Ochin Gas বলেই চিনতো।
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন এর আমন্ত্রণে বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণি সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ (ইপ্যাক ফাউন্ডেশন) এর উদ্যোগে ২০১৫ সালের ২২শে মে মাসে বৃক্ষটির নিচে একটি সভার আয়োজন করা হয়।বাংলাদেশ (ইপ্যাক ফাউন্ডেশন) ওই পুরনো গাছটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন ধরে পর্যালোচনা করারপর এই বৃক্ষটির তিনটি নাম রাখা হয়:-

অচিন গাছটির নামকরণ

  • তিত বট
  • টক বট
  • সাধা পাকুড়
ইপ্যাক ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরী তিনটির মধ্যে তিত বট Tit Bot নামটি ঘোষণা করেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ficus virens var sublanceolata, ইংরেজি নাম White fig। বিশেজ্ঞগণ আরও জানান যে, তিত বট বা সাদা পাকুর নামের বিরল প্রজাতির গাছ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়। বাংলাদেশেও এটি বিরল।তিনি আরও বলেন এ জাতের গাছ কালিয়াকৈরের বাঁশতলি গ্রাম ছাড়া দেশের অন্য কোথাও আছে কি না, এখনো এমন কোনো তথ্য পায়নি বলে জানায় ইপ্যাক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাগণ। অবশেষে অচিন গাছটি নাম পেল ‘তিত বট’ Tit Bot, আর ‘সাদা পাকুড়’ Sadha Pakur,।অচিন গাছ গাজীপুরে যার নাম দেওয়া হল সাদা পাকুর

অচিন গাছ বা সাদা পাকুর গাছটির বয়স (sadha pakur gas)

এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।এই সাদা পাকুর গাছটির বয়স কেউ সঠিক ভাবে বলেতে পারেনি। অনুমানের উপর বিত্তি করে অনেকেই বলে ২৫০শ বছর, অনেকে বলে ৩০০শ বছর, আবার অনেকেই বলে ৩৫০শ থেকে ৪০০শ বছর হবে।

তবে ইপ্যাক ফাউন্ডেশন ওই পুরনো গাছটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন ধরে পর্যালোচনা করার পর গাছটির বয়স নির্ধারিত করেছেন ৩০০শত বছর। অর্থাৎ অচিন গাছ তথা সাদা পাকুর Sadha Pakur gas গাছটির বয়স ৩০০শত বছর।

তিত বট/সাদা পাকুর গাছের ঠিকানা (Tit Bot Gas)
অনেকেই গাছটি দেখতে আসে অনেক দুর-দুরান্ত থেকে। চাইলে আপনিও আসতে পারেন এই ঠিকানাই- গাজীপুর কালিয়াকৈর বাঁশতলী-দক্ষিন পাড়া। গ্রামের নাম বাঁশতলী, থানা-কালিয়াকৈর, জেলা-গাজীপুর। প্রাই সবাই এই গাছটির চিনে।

অচিন গাছ গাজীপুরে যার নাম হল সাদা পাকুর  ভিডিও দেখুন

সাদা পাকুর গাছটিকে নিয়ে গ্রামের বাসিন্দারা যা বলেন

১.আরিফুল ইসলাম আরিফ (মেম্বার)

মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম আরিফ ভাই বলেন, তাদের গ্রামের আলেপ মিয়ার বাড়ির সামনে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপরে ওই গাছটির অবস্থান। গাছটি নিয়ে নানা রহস্য ও লোককাহিনী রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসেন। সব সময় ছায়া থাকায় গ্রামের মানুষ একটু প্রশান্তির খোঁজে ওই গাছের নিচে ছুটে আসে। এ কারণে গাছটির চারিপাশে সুন্দর বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।

২.শাহজাহান মিয়া (শিক্ষক)

আমার বয়স ৬০ বছর। জন্মের পর থেকেই গাছটিকে এমন বড়ই দেখে আসছি। আমার বাবা-চাচারাও এমন বড়ই দেখেছেন। তবে কেউ নাম জানতেন না। গবেষক ও বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান, গাছটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সাদা পাকুড়। এটি অতি বৃহৎ পত্র ঝরা বৃক্ষ। গাছটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে দেখা যায়। বাংলাদেশে বিরল। দেশের আর কোথাও এ রকম গাছ আছে কি না, এখনো জানা যায়নি।এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।

৩.আব্দুল খালেক (শিক্ষক)

ওই গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, জ্ঞান হবার পর থেকে এ যাবৎ গাছটিকে এমনই দেখছি। ছোটবেলায় দাদার মুখেও শুনেছি তিনিও নাকি জ্ঞান হওয়ার পর থেকে গাছটিকে এমনই দেখেছেন।আমরা আগে অচিন গাছ, বড় গাছ বলেই ডাকতাম। কয়েক বছর আগে জানলাম গাছটির নাম ‘সাদা পাকুড়’ Sadha Pakur.এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।

৪.জাফরিন সুলতানা(শিক্ষিকা)

কাঁচারস গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা জাফরিন সুলতানা বলেন,ছোটবেলায় গল্প শুনেছিলাম এই গাছ সম্পর্কে, এক মহিলা গাছের ডাল কেটে চুলায় জ্বালিয়ে রান্না করেছিল,পরদিন সকালে ওই মহিলার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে আমরা একটু ভয় পেলেও,কিন্তু ঐ গাছের কাছে যেয়ে উপরে উঠতাম ও খেলাধুলা করতাম কিন্তু ডালপালা ও পাতা কখনও ছিড়তাম না।এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।

অচিন গাছ বা সাদা পাকুর গাছের অলৌকিক ঘটনা

অচিন গাছ বা সাদা পাকুর গাছের অলৌকিক ঘটনা

এই গাছের অনেক অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। কিছু ঘটনা অল্প আর কিছু আছে অলৌকিকই বলা চলে।তবে এলাকার মানুষ এই সব ঘটনা দেখছে, শুনছে কিন্তু তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।

প্রথম অলৌকিক ঘটনা

এই গাছটাকে নিয়ে প্রথম যে ঘটনাটা ঘটে সেটা গাছটির মালিক আলেপ মিয়ার বাবার সাথে । কোন এক কারনে আলেপ মিয়ার বাবা গাছটি কাটার জন্য যায়। এবং সাধা পাকুর গাছটির একটি ডাল “বেশ বড় ধরনের ডালই ছিল” সেটা কেটে ফেলে এবং তার পরদিন থেকেই শুরু হয় তার পেট ব্যথা। এই ব্যথা অনেক দিন দরে চলতে থাকে প্রাই ১৫ থেকে ২০ দিন দীর্ঘ স্থায়ী হয় ।পরে আসতে আসতে তিনি ভালও হয়। তার পর থেকে এই গাছের ডালপালা আর কেই কাটে না।এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।

দ্বিতীয় অলৌকিক ঘটনা

দ্বিতীয় যে ঘটনা না ঘটে এটা একটু ভৌতিক ঘটনা। এই ঘটনাটা ঘটে গাছটির মালিক আলেপ মিয়ার চাচাত ভাই মোঃ জালাল মিয়ার সাথে।জালাল মিয়ার অনেক আগে থেকেই বাইলেন বাজানোর সখ ছিল। এবং তিনি প্রাই প্রতিরাতেই তার নিজের গড়ে বাইলেন বাজাতেন। একদিন রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। যার কারণে তিনি বাইলেনটা সাথে নিয়ে সেই অচেন গাছের নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রউনা হলেন।গাছটির কাছাকাছি আসার পর তিনি অনেক সুন্দর সুগন্দ পেতে থাকে। কিন্তু তিনি মনে করেছেন যে হয়তো কোন ফুলেন গণ্দ হবে । কিন্তু গাছটির আর একটু কাছাকাছি আসার পর তিনি হঠাৎ দেখতে পেলেন যে একজন লম্বা মানুষ, সাদা কাপড় পড়া, তার ১০-১২ হাত সামনে দিয়ে চলে গেল।ঘটনাটা মাএ কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যেই ঘটে গেল। তিনি ভয় ও পেলেন না কিছু মনেও করলেন না। কিন্তু তিনি এটা খেয়াল করলেন যে ঐ ঘটনার কয়েক মিনিট পড় সমস্ত সুগন্দ শেষ হয়ে গেল। জালাল মিয়া সেই লোকটিকে দেখার জন্য তার পিছু পিছু গেলেন কিন্তু পেলেন না। এর পর থেকে এমন সুগন্দ আর কেউই কোনদিন পাইনি।এমনকি সেই  লম্বা মানুষকেও কেও কোন দিন দেখতে পাইনি।তাকে দেখার জন্য অনেক জন অনেক রাত দরে গাছটির নিচে কাটিয়ে দিয়েছে তবুও দেখা মিলেনি এমন কোনো কিছুর।এই অচিন গাছ গাজীপুরে একটিই আছে।

এই গাছটিকে নিয়ে আরও অনেক ছোট ছোট নানা অলৌকিক কাহিনী রয়েছে।