বিজ্ঞাপন

প্রসব বেদনা আনার সেরা উপায়?।। কিভাবে প্রাকৃতিক ভাবে প্রসববেদনা আনতে হয়?

প্রসব বেদনা আনার সেরা উপায়?


প্রসব বেদনা আনার সেরা উপায়?

40 সপ্তাহের সীমারেখাটি এগিয়ে এলে, প্রতি প্রত্যাশী মা প্রসববেদনায় যাওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে। সেটাই নিখুঁত-বিশ্বের দৃশ্যকল্প।

In this Article

  • শিশুর আগমনের জন্য কি অপেক্ষা করছেন?
  • কিভাবে প্রাকৃতিক ভাবে প্রসববেদনা আনতে হয়
  • প্রসব বেদনা আনার প্রাকৃতিক উপায়
  • প্রসব বেদনা আনার ক্ষেতে এই বিষয়গুলি মনে রাখার উচিত
  • আপনার ডাক্তারের সাথে চেক করার উপায়

শিশুর আগমনের জন্য কি অপেক্ষা করছেন?

তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রসববেদনা নিজে নিজে শুরু হয় না। উদাহরণস্বরূপ, যদি মা কিছু নির্দিষ্ট মেডিকেল সমস্যায় ভোগেন, তবে স্বাভাবিক প্রসববেদনা বিলম্বিত হতে পারে। এই বর্ধিত গর্ভাবস্থা মা এবং শিশুর উভয়ের পক্ষেই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে নিম্নলিখিত জটিলতার ক্ষেত্রে:

  • ডায়াবেটিস
  • অ্যামনিওটিক তরলের অভাব
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • জরায়ুর সংক্রমণ
  • প্লাসেন্টার বিচ্ছেদ

যখন আপনার অ্যামনিওটিক স্যাক ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও আপনি সংকোচন অনুভব করেন না, তখন প্রসববেদনা আনার প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে। জরায়ুতে যে সংকোচন ঘটে সেটি ইঙ্গিত করে যে গর্ভটি সার্ভিক্স ছড়িয়ে দিয়ে প্রসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, যেখানে সংকোচনের অভাব মানে এই প্রস্তুতিটি অসম্পূর্ণ।


কিভাবে প্রাকৃতিক ভাবে প্রসববেদনা আনতে হয়?

বেশিরভাগ মহিলারা জল ভাঙার 24 ঘণ্টার মধ্যে প্রসববেদনার মধ্যে চলে যান, কিন্তু এই ঘটনার পরেও যদি আপনার প্রসববেদনা শুরু না হয়, তবে আপনার এবং আপনার শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা প্রসববেদনা প্রাকৃতিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তবে, যদি আপনি ওষুধ এড়াতে চান, তবে আপনি নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলিও চেষ্টা করতে পারেন। প্রসববেদনা আনার এই প্রাকৃতিক উপায়গুলি অন্বেষণ করা যাক:


প্রসব বেদনা আনার প্রাকৃতিক উপায়


কিভাবে প্রাকৃতিক ভাবে প্রসববেদনা আনতে হয়


চলাফেরা

হাঁটা সম্ভবত প্রসববেদনা আনার সবচেয়ে সহজ উপায় এবং খুব বেশি প্রচেষ্টা বা প্রস্তুতি লাগে না। এটি শিশুকে নিম্নতর পেলভিক এলাকার দিকে ধাক্কা দেয়, কারণ মাধ্যাকর্ষণ তার প্রভাবকে কার্যকর করে। শিশু পেলভিসের উপর চাপ প্রয়োগ করে এবং এর ফলে প্রসববেদনার জন্য সার্ভিক্সের প্রস্তুতি শুরু হয়। আপনার জল ভেঙে গেলেও প্রসববেদনা শুরু না হয়ে থাকলে, হাঁটা শুরু করুন। এমনকি যদি আপনার ইতিমধ্যে সংকোচন হয়েও থাকে, হাঁটাচলা প্রসববেদনায়র সময় সাহায্য করবে।

যৌনতা

এখন সেটা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে, তাই না? বিশেষ করে, যখন আপনি 40 সপ্তাহের বেশি গর্ভবতী হন, তখন আপনার মনে এবং আপনার সঙ্গীর মনেও যৌনতার কথা হয়তো সবার শেষে আসবে। তবে, পুরুষ শুক্রাণুগুলিতে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক একটি হরমোন থাকে যা সার্ভিক্সকে ছড়িয়ে দিতে এবং পাতলা করতে সাহায্য করে, ফলে এটি প্রসবের জন্য প্রস্তুত হয়।

এই প্রাকৃতিক ব্যায়াম আপনাকে কিছু বাষ্প বের করে দিতে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করবে। প্রসববেদনা আনার জন্য এর থেকে বেশী আনন্দদায়ক এবং খরচহীন পদ্ধতি আর হতে পারে না। আপনি এই পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করার কথা মনে রাখবেন।

প্রিমরোজ তেল

এই বহুমুখী ঔষধি তেল সার্ভিক্সকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, প্রসববেদনায়র জন্য এটিকে প্রস্তুত করে। সান্ধ্য প্রিমরোজ তেল ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায় যা মুখ দিয়ে খাওয়া যায় অথবা অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহার করা যায়। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহে এই তেলকে সার্ভিকাল এলাকায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। অবশ্যই, প্রয়োগ করার বা মুখ দিয়ে খাওয়ার আগে, আপনাকে ভালো ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে এবং সবুজ সংকেত পেতে হবে।

ক্যাস্টর তেল

ক্যাস্টর তেল একটি সুপরিচিত জোলাপ, যদিও এটি খুব সুস্বাদু নয়। বহু প্রজন্ম ধরে, ধাত্রী এবং ঠাকুমারা এটির ব্যবহারের সুপারিশ করেছেন, যখন প্রসববেদনা শুরু হতে দেরী হয়। জোলাপটি অন্ত্রকে উত্তেজিত করে এবং এর ফলে জরায়ুতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা সংকোচন ঘটাতে পারে। যদিও এটি প্রাকৃতিক প্রসববেদনার জন্য জনপ্রিয় ও সাধারণভাবে প্রস্তাবিত কৌশলগুলির একটি, তবে কতটা ক্যাস্টর তেল খাওয়া উচিত তা আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন, কারণ আপনি এই পর্যায়ে ডায়রিয়া এড়াতে চান।

মশলাযুক্ত খাবার

ক্যাস্টর তেলের মতো, মশলাযুক্ত খাবার অন্ত্রকে জ্বালাতন করে এবং জরায়ুর সংকোচনের কারণ হতে পারে। পরিমাণে সতর্কতা অবলম্বন করুন কারণ অনেক বেশি পরিমাণে খেলে খুব বুকজ্বালা হতে পারে এবং প্রসবের সময় পেট খারাপ হওয়া আপনি চাইবেন না।

আকুপাংচার

ব্যথা নিরসন করার জন্য ব্যবহৃত এই বহু-পুরোনো বিকল্প পদ্ধতিটি প্রাকৃতিকভাবে প্রসববেদনা প্ররোচিত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসাবে পরিচিত। শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গগুলিকে হাত ও পায়ের বিভিন্ন বিন্দুর মাধ্যমে সক্রিয় করার জন্য সূঁচ ব্যবহার করা হয়।

এটি জরায়ুর কার্যকলাপকে উদ্দীপিত করতে এবং শিশুকে পৃথিবীতে আনতে সাহায্য করার জন্য পরিচিত। অনেক হবু মায়েরা এবং এই পদ্ধতির অনুশীলনকারীরা এর কার্যকারিতা সমর্থন করেন কারণ এটির কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানা নেই।

আকুপ্রেসার

এটি অন্য আরেকটি কৌশল যা শরীরের বিভিন্ন বিন্দু সক্রিয় করার উপর নির্ভর করে, কিন্তু অ্যাকুপাংচারের অননুরূপভাবে, এই পদ্ধতিতে সূঁচের পরিবর্তে আঙ্গুলের সাহায্যে বিন্দুগুলিতে চাপ প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয়। দুটি চাপ বিন্দু, তর্জনী আঙুল এবং বুড়ো আঙুলের মধ্যেকার খাঁজ এবং পায়ের ভেতরের দিকে গোড়ালির হাড়ের উপরের বিন্দু প্রসববেদনা প্রাকৃতিক উপায়ে প্ররোচিত করতে পারে।

কল্পনা করার (ভিজ্যুয়ালাইজেশন) ব্যায়াম

নিজেকে প্রসববেদনার মধ্যে প্রবেশ করতে এবং একটি শিশুর প্রসব করতে কল্পনা করুন। শিশুর বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি এবং নীচের দিকে চলে যাওয়ার বিষয়ে নিজের কথা বলা রেকর্ড করতে পারেন। শুধু নিজের মাথায় এটি কল্পনা করলে আপনি শিথিল হতে পারেন এবং বড় দিনটির জন্য প্রস্তুত হতে পারেন।

স্তনবৃন্তকে উদ্দীপিত করা

অক্সিটোসিন হরমোনটি সংকোচন এনে দেয় এবং দিনের কয়েক ঘন্টা ধরে স্তনবৃন্তকে উদ্দীপিত করে এটি অর্জন করা যেতে পারে। আপনি স্তনবৃন্তকে মালিশ করতে বা মোচড়াতে পারেন এবং আশা করতে পারেন যে প্রসববেদনা প্ররোচিত করা হল। আপনি সঠিকভাবে এটি করছেন কিনা তা আপনার ডাক্তারের সাথে চেক করুন। মনে রাখবেন, এটি ভ্রুণের হৃৎস্পন্দনের হার কমিয়ে আনতে পারে এমন মোটামুটি শক্তিশালী জরায়ুর সংকোচনের কারণ হতে পারে। অতএব, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং আপনার বিবেচনার ভিত্তিতে কাজ করুন।

মালিশ

গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে একটি মালিশ আপনার শরীর থেকে অক্সিটোসিনের ক্ষরণ ঘটায়, যে হরমোনটি প্রসববেদনাকে প্ররোচিত করতে প্রয়োজনীয় সংকোচনগুলি এনে দেয়। প্রাকৃতিকভাবে প্রসববেদনা আনার অন্যান্য সমস্ত পদ্ধতির মধ্যে, মালিশ একটি পছন্দসই পদ্ধতি।

কারণ, অন্য জিনিসগুলির মধ্যে, এটি আপনাকে অনেক রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে এবং প্রসববেদনা কাছাকাছি নিয়ে আসে। এটি হ’ল বিশ্রামের অবস্থানে নিজেকে আনয়ন করার জন্য যাতে প্রয়োজনীয় হরমোনগুলি ক্ষরিত হয় এবং প্রসববেদনা প্রাকৃতিকভাবে প্ররোচিত হয়।

কলা

কলা পটাসিয়াম সমৃদ্ধ এবং পেশী সংকোচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং যদি আপনার পটাসিয়াম কম থাকে, আপনার প্রসববেদনা বিলম্বিত হতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহে কলা খেলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রসববেদনা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে, কলা খাওয়ার সময় সংযম সুপারিশ করা হয়। আপনি আপনার ডায়েটে কলা অন্তর্ভুক্ত করার আগে আপনার ডাক্তার বা ডায়েটিসিয়ানের সাথে পরামর্শ করুন। আমরা আপনাকে পটাসিয়াম পরিপূরক নিতে সুপারিশ করব শুধুমাত্র যদি আপনার ডাক্তার পরামর্শ দেন।

ব্যায়াম বল

ব্যায়াম বলটি ছড়িয়ে দেওয়ার গতি বাড়ায় এবং শিশুকে জন্মের নালীর দিকে নিয়ে যায় এবং ধাত্রীদের দ্বারা অত্যন্ত সুপারিশ করা হয়।

এই ব্যায়াম শিশুকে পেলভিসের নীচের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং সঠিক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে যাতে বিশ্বে তার প্রবেশ ঘোষণা করা যায়।

আনারস

এই আশ্চর্যজনক ফলটিতে ব্রোমেলিয়াড এনজাইম রয়েছে, যা তাজা এবং কাঁচা গ্রহণ করলে, সার্ভিক্সকে নরম করতে এবং প্রসববেদনা নিয়ে আসতে পারে। আনারসে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে পাকস্থলী উদ্দীপিত হলে সংকোচন শুরু হতে পারে।

ঝিল্লি ছেদন

এই পদ্ধতিতে কোন চিকিৎসা পদ্ধতি বা ঔষধ নেই যা প্রসববেদনা আনতে ঝিল্লিগুলিকে ছিন্ন করে। সার্ভিক্যাল এলাকা থেকে অ্যামনিওটিক স্যাকটিকে আলাদা করার জন্য ডাক্তার একটি গ্লাভ পড়া আঙুল ব্যবহার করেন। এটি করলে, শরীর প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোনটি ক্ষরণ করে যা আপনাকে প্রসববেদনায় যেতে সাহায্য করতে পারে। ঝিল্লি ছেদন করা হয়ে গেলে, জল ভাঙার এবং অবিলম্বে প্রসববেদনায় যাওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে।

(হিপনোসিস) সম্মোহন

হিপনোসিস বা হিপনোথেরাপি প্রসববেদনায় যাওয়ার আগে আপনাকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করতে পারে, কারণ মানসিক চাপ আমাদের শরীরকে অক্সিটোসিন উত্পাদন করা থেকে বাধা দিতে পারে, যে হরমোনটি প্রসববেদনা শুরু করার জন্য প্রয়োজন। এই পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষণা চলছে, এবং প্রসববেদনায়র জন্য মানসিক চাপগুলি থেকে আপনার মনকে দূরে রাখতে, আপনি কিছু স্ব-সম্মোহন সিডি কিনে নিজে নিজে চেষ্টাও করতে পারেন।



প্রসব বেদনা আনার ক্ষেতে এই বিষয়গুলি মনে রাখার উচিত

প্রসববেদনা আনার আগে আপনার কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

প্রসব বেদনা আনার ক্ষেতে এই বিষয়গুলি মনে রাখার উচিত


বিলম্ব হওয়ার কারণে উদ্বিগ্ন হবেন না: প্রথমবার গর্ভাবস্থাগুলির 80% বিলম্বিত হতে পারে এবং শুধুমাত্র যদি আপনি 42 সপ্তাহেরও বেশি অতিক্রম করে থাকেন, তবেই আপনি নিজেকে বিলম্বিত বলে মনে করতে পারেন। তখনও, প্রসববেদনা প্ররোচিত করা আপনার সিদ্ধান্ত এবং ডাক্তার আপনার অনুমতি ছাড়া এটি করতে পারবেন না।

প্রাকৃতিক প্ররোচনা একটি সমর্থন হিসাবে ব্যবহার করা উচিত:  প্রসববেদনা আনতে 39তম বা 40তম সপ্তাহের আগে সুপারিশ করা হয় না এবং আপনার শরীরকে প্রসববেদনায় প্রবেশ করতে জোর না করার জন্য যথেষ্ট মৃদু হওয়া উচিত।

একটু গবেষণা করুন এবং আরো কিছু: আপনি প্রসববেদনা আনার জন্য বিভিন্ন তেল ও খাবার গ্রহণ করার সময় আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য জড়িত সমস্ত ঝুঁকিগুলি জানুন। কোন ব্যায়ামটি আপনার জন্য বেশী উপযুক্ত তা জানুন, তবে কোনও ভাবেই নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন না।

আপনার ডাক্তারের কাছে পৌঁছান: যদি আপনি কোনো প্রসববেদনা আনার পদ্ধতির সাথে কোনো ক্রমবর্ধমান জটিলতা বা ঝুঁকি অনুভব করেন, তবে কোনো বিলম্ব ছাড়াই আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং আপনার সমস্ত সন্দেহগুলি ব্যাখ্যা করুন। আপনার গর্ভাবস্থা যদি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং জটিল হয়, তবে আপনার ডাক্তার আপনাকে তা বলতে পারবেন, যাতে আপনি প্ররোচিত প্রসববেদনায়র কোনো পদ্ধতি এড়াতে পারেন।


আপনার ডাক্তারের সাথে চেক করার উপায়

প্রসববেদনা আনার জন্য আপনি আরও কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। তবে, আপনার এবং আপনার শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে এই পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

ভেষজ প্রতিকার

বলা হয় যে, নীল কোহোশ এবং কালো কোহশ – এই দুটি ভেষজ প্রতিকার প্রসববেদনা আনতে পারে। তবে, এগুলিকেও শিশুর স্ট্রোক এবং হার্টের সমস্যার সাথে যুক্ত করা হয়। আপনি এগুলি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন।

রাস্পবেরী পাতা

এটি প্রসববেদনা আনার জন্য ব্যবহৃত আরেকটি ভেষজ চিকিত্সা। এই প্রতিকার, তবে, গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক দিনের মধ্যে সুপারিশ করা হয় না। বিলম্বিত প্রসববেদনায়র জন্য রাস্পবেরী পাতা খেলে তীব্র সংকোচন হতে পারে এবং শিশুর ক্ষতি করতে পারে। আপনার গর্ভধারণের 32তম সপ্তাহ থেকে আপনি রাস্পবেরী পাতার চা পান করতে শুরু করতে পারেন কারণ এই চা-টি জরায়ুর চারপাশের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে, এবং এইভাবে ডেলিভারিকে সহজ করে তুলতে পারে বলে জানা যায়। এই ভেষজ প্রতিকার শুরু করার জন্য সঠিক সময় এবং সঠিক পরিমাণটি সম্পর্কে জানতে, আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

আপনি যদি স্বাদ পছন্দ না করেন তবে আপনি রাস্পবেরী পাতার ক্যাপসুল কিনতে পারেন (প্রথমে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন) এবং প্যাকের নির্দেশাবলী মেনে চলুন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

যদিও হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলির প্রসববেদনা আনতে সহায়তা করার কোনো প্রমাণ নেই, তবে পুলসাতিলা এবং কৌলফিলামের মতো প্রতিকারগুলি প্রায়ই বিহিত করা হয়। যেহেতু এগুলি ব্যবহারকারীর কোনও ক্ষতি করে বলে জানা নেই এবং সাধারণত এগুলির কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, তাই হোমিওপ্যাথিক প্রতিকারগুলি চেষ্টা করা যেতে পারে। যাইহোক, আমরা আপনাকে ওষুধ গ্রহণ করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার সুপারিশ করি, এমনকি সেটা যদি হোমিওপ্যাথিক হয় তাও।

উপসংহার

আপনার গর্ভাবস্থাটি 42 সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকলে বা যদি আপনার পূর্ববর্তী ডেলিভারি সঠিক সময়ে হয়ে থাকে, তবে প্রসববেদনা প্ররোচিত করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনার গর্ভাবস্থা নির্ধারিত 40 সপ্তাহের পরেও চলতে থাকলে, প্ল্যাসেন্টা আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম না হতে পারে এবং ঔষধগতভাবে প্ররোচিত প্রসববেদনা প্রয়োজন হতে পারে। প্রসববেদনা প্ররোচনা করার জন্য চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য যাওয়ার আগে, আপনি কিছু প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করতে পারেন যা আপনাকে ওষুধগুলি এড়াতে সহায়তা করে। আমরা দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করি যে আপনি কোনও পদ্ধতি চেষ্টা করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।