বিজ্ঞাপন

ছোট বাচ্চাদের মুখের ঘা সারানোর ঘরোয়া উপায়।

ছোট বাচ্চাদের মুখের ঘা সারানোর ঘরোয়া উপায়

ছোট বাচ্চাদের মুখে ঘা হতেই পারে।মুখের আলসার বা মুখের ক্ষতচিহ্নগুলি ঠোঁটে এবং মুখের ভিতরের মাড়িতে সাদা দাগ দ্বারা চিহ্নিত হয় যার চারপাশের এলাকা লালচে, প্রদাহযুক্ত হয়। এগুলিতে স্পর্শ করলে, অথবা পার্শ্ববর্তী ত্বকে টান পড়লে ব্যথা লাগে এটি বাচ্চার কথা বলা এবং চিবানোকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। তবে, মুখের আলসার সংক্রামক হয় না এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই বাড়িতে চিকিৎসা করা যেতে পারে। এই প্রবন্ধে, আসুন আমরা সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চাদের মুখের আলসারের কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিকারের বিষয়ে দেখি, যেগুলি থেকে আপনি দুর্দান্ত প্রভাব পেতে পারেন।

ছোট বাচ্চাদের মুখের ঘা সারানোর ঘরোয়া উপায়সমূহ

বেশ কয়েকটি কারণে শিশুদের মুখের আলসার বা ঘা হতে পারে যেমন চাপ, আঘাত, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাব, শরীরের তাপ বা এমনকি খাদ্য এলার্জি থেকে। আসুন আমরা শিশুদের জন্য কয়েকটি প্রতিকারের দিকে নজর রাখি, যা সহজেই বাড়িতেই চেষ্টা করা যেতে পারে।

১. যষ্টিমধু

যষ্টিমধু

আপনি 2 কাপ জলে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু ভেজাতে পারেন এবং মুখের আলসার নিরাময় করতে আপনার সন্তানকে প্রতিদিন কয়েকবার এই জল দিয়ে গার্গল করাতে পারেন। যদি শিকড়টি আপনার কাছে গুঁড়া আকারে থাকে, তবে সর্বোত্তম বিকল্পটি হল অল্প হলুদ বা মধুতে এটি মেশাতে হবে এবং তারপর প্রভাবিত এলাকায় এটি প্রয়োগ করতে হবে। যষ্টিমধু একটি উপশমকারী হিসাবে কাজ করবে, এবং এটির প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে যা আলসারের চারপাশে ব্যথা হ্রাস করতে এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করে। মুখের আলসার খুব খারাপ অবস্থায় থাকাকালীন প্রয়োগ করলেও আপনি তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখতে পাবেন খোলা ক্ষতগুলি হ্রাস পায় এবং লালচেভাব হ্রাস পায়।

২. মধু

মধু

আপনার সন্তান যদি এক বছরের বেশি বয়স্ক হয়, তবে মুখের দূষিত ক্ষতের চিকিৎসা করার সর্বোত্তম উপায় হল মধু ব্যবহার করা। মধু খাওয়ার পরিবর্তে, আপনাকে প্রভাবিত এলাকায় ক্ষতের উপর এটি বেশ কয়েক বার প্রয়োগ করতে হবে। মধুতে প্রচুর জীবাণু বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই এটি বেশি খাটুনি ছাড়াই ক্ষত তাড়াতাড়ি নিরাময় করতে সহায়তা করে। এছাড়াও, আপনার সন্তান মধু লাগানো পছন্দ করবে, কারণ এটির একটি মিষ্টি স্বাদ রয়েছে। যাইহোক, মনে রাখবেন যে এক বয়সের চেয়ে কম বয়সের শিশুদের মধু দেওয়া বিপজ্জনক।

৩. হলুদ

হলুদ

বেশিরভাগ ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে প্রধানতম, শিশুদের মুখের আলসারের চিকিৎসার জন্য খুব ভালো প্রভাব পেতে হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটিতে প্রদাহবিরোধী, অ্যান্টিসেপটিক এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দ্রুত সকল ধরনের ক্ষত ও কাটা নিরাময় করতে সহায়তা করে। হলুদের প্রয়োগ সহজ করার জন্য, আপনি এটি শিশুটিকে দেওয়ার আগে এটিকে মধুর সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।

৪. নারিকেল

নারিকেল

নারকেল সব বাংলাদেশ ও ভারতীয় পরিবারের অন্যতম প্রধান উপাদান, এবং মুখের আলসার চিকিৎসার সময়ও কাজে আসে। তিনটি নারকেল পণ্য জল, দুধ এবং তেলকে মুখের দুষিত ক্ষতের প্রতিকার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি হয় আপনার শিশুকে নারকেলের জল পান করাতে পারেন, বা তাকে নারকেল দুধ দিয়ে গার্গল করাতে পারেন যাতে প্রভাবিত এলাকাটি প্রশমিত হয়। অন্যথায়, আপনি শুধু ক্ষতের এলাকায় নারকেল তেল প্রয়োগ করতে পারেন এর দারুণ প্রভাব পেতে। আসলে, নারকেল তেল 6 মাসের কম বয়সী শিশুদের মুখের দূষিত ক্ষতের চিকিৎসা করার জন্য আপনার এক সেরা বাজি।

শিশুদের বমি বন্ধ করার কার্যকারী উপায়সমূহ।

৫. তুলসী পাতা

তুলসী পাতা

বেসিল পাতা, যা তুলসী হিসাবে বাংলাদেশ ও ভারতীয় পরিবারে পরিচিত, মুখের আলসারের জন্য আরেকটি দুর্দান্ত প্রতিকার। পাতাগুলিতে ওষুধের গুণ আছে, তাই এগুলিকে ব্যবহার করলে আলসার দ্রুত গায়েব হয়ে যেতে পারে। তুলসি পাতাগুলি হল একটি অ্যাডাপ্টোজেন এবং দিনে বেশ কয়েকবার উষ্ণ জল দিয়ে চিবানো উচিত। তারা আপনার সন্তানের দেহের চাপ উপশম করতে সাহায্য করে এবং এইভাবে মুখের আলসারগুলির পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা হ্রাস করে।

৬. দই

দই

বাচ্চাদের মুখের আলসারের চিকিৎসা করার জন্য দই এবং ঘোলও খুব উপকারী বলে দেখা গেছে। আপনার বাচ্চার মুখে এগুলির যেকোনো একটিকে পুরে দিয়ে তাকে এটি কিছু সময় ধরে প্রভাবিত এলাকার চারপাশে ঘোরাতে বলুন। দইটি টক হলে, আলসার দ্রুত নিরাময় হবে। দই একটি দুর্দান্ত প্রতিকার কারণ এতে ল্যাকটিক অ্যাসিড আছে, যা ক্ষত এলাকায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিকে দমন করে।

৭. পোস্ত দানা এবং নারকেল ক্যান্ডি

পোস্ত দানা এবং নারকেল ক্যান্ডি

চিনির মিছরি গুঁড়া করুন, এবং কিছু পোস্ত দানা ও কোড়া নারকেল মিশিয়ে এটিকে পিষে নিন। এই মিশ্রণটিকে একটি বড়ির আকারে নিয়ে আসুন, এবং আপনার সন্তানকে এই মিষ্টি মিছরিটিকে চুষতে দিন। আপনার সন্তানের এটি নিয়ে কোনো অস্বস্তি থাকবে না, এবং এই আইটেমটি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে মুখের আলসার নিরাময় করতে সাহায্য করবে। মিছরিতে থাকা পোস্ত দানাগুলি নারকেলের মতো শরীরের উপর শীতল প্রভাব ফেলে। শিশুটির শরীরের তাপ উৎপাদনের কারণে যদি আলসার হয়ে থাকে তবে এটি হল প্রতিরোধ করার উপায়।

৮. ঘি

ঘি

দুধের আরেকটি উপজাত দ্রব্য, ঘি আপনার সন্তানের মুখে উপস্থিত মুখের আলসার নিরাময় করতে বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। সেরা প্রভাবের জন্য আপনাকে দিনে অন্তত তিনবার প্রভাবিত এলাকায় ঘি প্রয়োগ করতে হবে। এটি ক্ষত দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করে এবং ক্ষতের কারণে হওয়া ব্যথা হ্রাস করে শিশুকে অনেক আরাম দেয়। যদি আপনার সন্তান ঘি–এর স্বাদ পছন্দ না করে, তবে আপনি একই রকম প্রভাবের জন্য তাকে ক্ল্যারিফায়েড বা পরিষ্কার মাখন দিতে পারেন।

৯. অ্যালো ভেরা

অ্যালো ভেরা

আরেকটি বিখ্যাত ঘরোয়া প্রতিকার, অ্যালো ভেরাও বাচ্চাদের মুখের আলসার নিরাময় করার জন্য একটি দারুণ উপায়। পাতাটি ব্যথা থেকে ত্রাণ সরবরাহ করে এবং এর ব্যাকটেরিয়া বিরোধী ও নিরাময় করার গুণগুলি মাড়ির স্বাস্থ্যে অবদান রাখে। আপনি প্রভাবিত এলাকাটিতে জেল প্রয়োগ করতে পারেন অথবা এটি জলের সাথে মেশাতে পারেন এবং দুর্দান্ত ফলাফলের জন্য দিনে তিনবার এটি দিয়ে মুখ ধোওয়াতে পারেন। যদি আপনি পরের বিকল্পটি নির্বাচন করেন তবে জেল মেশানোর জন্য ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন– এটি ব্যথা থেকে ত্রাণ সরবরাহ করে এবং বাচ্চারাও এটি উপভোগ করবে।

১০. আইসক্রিম

আইসক্রিম

অনেক আলসার নিজে নিজেই একটি সময়ের পরে চলে যায়, তাই ঠান্ডা আইটেমগুলি ব্যথা কমাতে এবং শিশুকে কিছু আরাম দিতে কাজে লাগতে পারে। যদিও এটি শিশুর মুখের আলসারের চিকিৎসা নয়, তবে আইসক্রিম আপনার সন্তান যে ব্যথা অনুভব করে তা দূর করতে কাজে আসে। ঠান্ডা জিনিস প্রভাবিত এলাকাটিকে প্রশমিত করতে পারে এবং আইসক্রিম একটি দুর্দান্ত পছন্দ, কারণ শিশুদের এই ‘ওষুধ‘টি সম্পর্কে কোনো অভিযোগ নেই।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখের আলসার দ্রুত কমে যায় এবং সন্তানের উপর কোন স্থায়ী প্রভাব ছাড়াই অদৃশ্য হয়ে যায়। আপনি এটিকে দ্রুত দূর করতে, এবং আলসারের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা হ্রাস করার জন্য এই প্রতিকারগুলি ব্যবহার করতে পারেন। তবে সমস্যাটি যদি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা ভাল হবে